বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ - ১০:৫২
ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ দাতার মালিকানাধীন পত্রিকার প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি ইসরাইলি-আমেরিকান ধনকুবের মিরিয়াম অ্যাডেলসনের মালিকানাধীন একটি পত্রিকায় প্রকাশিত ইরানবিরোধী প্রতিবেদনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। তিনি একে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত “ন্যারেটিভ” আখ্যা দিয়ে এর পেছনের স্বার্থ সম্পর্কে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাকচি লেখেন, “মিরিয়াম অ্যাডেলসনের মুখপাত্রসদৃশ কোনো গণমাধ্যম যখন ইরান সম্পর্কে নাটকীয় দাবি তোলে, তখন প্রশ্ন করা প্রয়োজন—এটি কার স্বার্থে প্রচার করা হচ্ছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টও স্বীকার করেছেন, তার (অ্যাডেলসনের) প্রধান আনুগত্য কোথায়।”

তিনি জানান, সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর হোয়াইট হাউস সফরের ‘মাত্র এক ঘণ্টা আগে’ ইরান নাকি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘প্রতারণা’ করেছে। একই প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়, ইরানে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “বাস্তবতা হলো— কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি, কোনো বিচারিক প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়নি এবং ২ হাজারেরও বেশি বন্দিকে ইতোমধ্যে ক্ষমা করা হয়েছে।”

উল্লেখ্য, এ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে অ্যাডেলসনের মালিকানাধীন ইসরাইলি দৈনিক ইসরায়েল হাইয়োম। এটি এমন এক সময়ে প্রকাশিত হয়, যখন নেতানিয়াহু হোয়াইট হাউস সফরে যাচ্ছিলেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার বিষয়টি তার সফরের আলোচ্যসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।

এদিকে তেহরান ও ওয়াশিংটন উভয় পক্ষই চলমান আলোচনা নিয়ে সতর্ক আশাবাদ প্রকাশ করেছে। এই প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনটি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

মিরিয়াম অ্যাডেলসন একজন প্রভাবশালী ইসরাইলি-আমেরিকান ব্যবসায়ী ও রিপাবলিকান পার্টির বড় অর্থদাতা। তিনি প্রয়াত বিলিয়নিয়ার ও রিপাবলিকান মেগা-ডোনার শেলডন অ্যাডেলসনের স্ত্রী। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ইলেকশন কমিশনে দাখিল করা নথি অনুযায়ী, সর্বশেষ নির্বাচনী চক্রে তিনি ট্রাম্প-সমর্থিত একটি রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটিতে ১০০ মিলিয়ন ডলার অনুদান দেন, যা তাকে ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় একক দাতায় পরিণত করে।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha